২০২৪ সালে বিশ্ববাজারের ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ আকরিক লোহা একাই সরবরাহ করেছে দেশটি। নতুন ও চলমান খনিগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার ওপর ভর করে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার আকরিক লোহা উত্তোলন আরো বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
হেলেনিক শিপিং নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার আকরিক লোহা উত্তোলনের পরিমাণ ৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে এমআরএলের ওনস্লো, বিএইচপির সাউথ ফ্ল্যাঙ্ক ও ফোর্টাসকিউয়ের আয়রন ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে রিও টিন্টো ও চীনের বাউউ স্টিল গ্রুপের যৌথ মালিকানাধীন ওয়েস্টার্ন রেঞ্জ খনি থেকেও উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ খনির বার্ষিক আকরিক লোহা উত্তোলন সক্ষমতা আড়াই কোটি টন।
তবে আকরিক লোহা উত্তোলনের এ ঊর্ধ্বগতি কিছু প্রতিকূলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিএইচপির ইয়ান্দি খনির মজুদ কমে যাওয়ায় উত্তোলন হ্রাস পাওয়া। এছাড়া বিশ্ববাজারে আকরিক লোহার দাম কমে যাওয়ায় রয় হিল খনি থেকে উত্তোলন কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘূর্ণিঝড় ‘জিলিয়া’ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও খনির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় কুলিয়ানবিং খনিটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পূর্বাভাসের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার আকরিক লোহা উত্তোলন ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ কোটি ৩৪ লাখ টনে পৌঁছবে। ওনস্লো, ওয়েস্টার্ন রেঞ্জ ও আয়রন ব্রিজের মতো বড় খনিগুলোর সম্প্রসারণ এতে মূল ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ম্যাকফি ক্রিক ও ল্যাম্ব ক্রিক নামের নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মালিকানা পরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কুলিয়ানবিং খনি থেকেও পুনরায় উত্তোলন শুরু হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আকরিক লোহা উত্তোলন গড়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়বে। এ সময়ের মধ্যে মোট উত্তোলনের পরিমাণ ১০৯ কোটি ৪৬ লাখ টনে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নতুন প্রকল্পের নিয়মিত সংযোজন ও আধুনিক খনি ব্যবস্থাপনার কারণে অস্ট্রেলিয়া আকরিক লোহার বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।